মোঃ এমরান, লামা (বান্দরবান):
তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বান্দরবানের লামায় তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
এদিকে, নিখোঁজ কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চলছে।
নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো- লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাকি দুজনের শ্রেণি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, রেশমি মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই সার্টিফিকেট নিতে তাঁর বিদ্যালয়ে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাদের নিখোঁজের কারণ উদ্ঘাটন ও সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে।
তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়া এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
